রোজার ব্যাপারে নানারকম অবিদ্যা বা ভুল ধারণা (দ্বিতীয় পর্ব)

রোজার ব্যাপারে নানারকম অবিদ্যা বা ভুল ধারণা

রোজার ব্যাপারে নানা রকম ভুল ধারণা (তৃতীয় পর্ব )

সেহরিতে বেশি করে খেতে হবে

আমরা কেউ কেউ মনে করি, এত বড় একটা দিন রোজা রাখতে হবে! যত বেশি খেয়ে নেয়া যায়, তত ভালো! ফলে সেহরিতে রাখি ভূরিভোজের ব্যবস্থা – গরুর গোশত, মাছ, মুরগি, ভাত-সবজি, দুধ, ফল, চা-কফি, ডেজার্ট ইত্যাদি দিয়ে এলাহি কাণ্ড। অথচ সুস্থ রোজার চর্চায় এর চেয়ে ভ্রান্তির আর কিছু নেই।

প্রথমত, রোজা রেখে আপনি পানি খেতে পারছেন না। আর প্রোটিন জাতীয় খাবার প্রক্রিয়াজাত করতে দেহে লাগে প্রচুর পানি। ফলে সেহরিতে এসব খাবার যত বেশি খাবেন, আপনার তৃষ্ণা পাবে বেশি, অস্বস্তিবোধ হবে বেশি।

দ্বিতীয়ত, সুস্থ থাকার সাথে আসলে বেশি খাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। ১০৫ বছর বয়সী ফৌজা সিং। সবচেয়ে বেশি বয়সী ম্যারাথন দৌড়বিদ হিসেবে বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী। ২০১৩ সালে অবসর নেয়ার আগে হংকংয়ের যে ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় শেষবারের মতো ফৌজা সিং অংশ নেন, সেখানে ১০ কিমি দৌড়েছেন তিনি মাত্র ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিটে, ১০২ বছর বয়সে! আজ পর্যন্ত তার দেহে কোনো অপারেশন হয় নি, হৃদরোগ নেই তার, কখনো তিনি কোনো ওষুধ খান নি।

এই সুস্থ দীর্ঘজীবনের রহস্য কী? কোনো বিশেষ খাবার-দাবার? না, বরং পাঞ্জাবের এক সাধারণ কৃষক পরিবার থেকে আসা ফৌজা সিংয়ের খাবার খুবই সাধারণ – কাঁচা ফল, সবজি, নিরামিষ। কিন্তু তার রহস্যটা হলো খাবারের পরিমাণ! একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ দিনে যে পরিমাণ খায়, ফৌজা সিং খান তার অর্ধেক। অর্থাৎ একটি শিশু যে পরিমাণ খায়, অনেকটা সে পরিমাণ!

 ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে রোজা ক্ষতিকর

ডায়াবেটিস রোগীদের যেহেতু নিয়ম করে খেতে হয়, তাই ডায়াবেটিস থাকলে রোজা রাখা যাবে কি না- এ নিয়ে অনেকেরই সংশয় আছে। কিন্তু গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা।

তার আগে আমাদের একটু বুঝতে হবে, ডায়াবেটিস মানে কী? খুব সহজ ভাষায় বললে, আপনার ডায়াবেটিস হওয়া মানে হলো, আপনার জন্যে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন আর আপনার দেহ তৈরি করতে পারছে না। আর এটা তখন হয়, যখন প্রচুর খাওয়া-দাওয়ার কারণে অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি হতে থাকে এবং নিয়মিত তা পেতে পেতে অলস এবং তৃপ্ত কোষগুলো একসময় ইনসুলিন-রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যায়।

কিন্তু আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এজিংয়ের নিউরো সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রধান ড. মার্ক ম্যাটসন তার এক গবেষণায় দেখেন উপবাস বা খাবার না খাওয়া এক্ষেত্রে চমকপ্রদ কিছু ফল দেখাচ্ছে। তার এ গবেষণায় তিনি ইঁদুর ব্যবহার করেছিলেন। ইঁদুরগুলোকে তিনি দুভাগ করেন। একভাগকে মাঝে মাঝে না খাইয়ে রাখতে লাগলেন। আর একভাগকে নিয়মিতভাবে উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার এবং চিনি মেশানো পানি দিয়ে গেলেন।

দেখা গেল মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকার ফলে সংশ্লিষ্ট ইঁদুরগুলোর দেহে ইনসুলিনের সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ছে। আর এতে করে তাদের কোষগুলো সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে এবং বেড়েছে মেটাবলিজম। আর যে-দেহে এ অবস্থা বিরাজ করে, সে-দেহে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*