লিভার ড্যামেজের এই লক্ষণগুলো আপনি অবহেলা করছেন না তো - Bd Online News 24
Home » চিকিৎসা » লিভার ড্যামেজের এই লক্ষণগুলো আপনি অবহেলা করছেন না তো

লিভার ড্যামেজের এই লক্ষণগুলো আপনি অবহেলা করছেন না তো

মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি হল লিভার। হজমশক্তি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে বিষাক্ত পর্দাথ দূর করা পর্যন্ত শরীরে বেশকিছু কাজ লিভার করে থাকে। বিভিন্ন কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সমস্যা শুরুর দিকে এর চিকিৎসা করা না হলে লিভার ড্যামেজের মত ঘটনা ঘটতে পারে। লিভার ড্যামেজ বড় কোন শারীরিক লক্ষণের মাধ্যমে প্রকাশ নাও হতে পারে। খুব সাধারণ কিছু বিষয় হতে পারে লিভার ড্যামেজের পূর্বলক্ষণ। দীর্ঘদিন মুখে দুর্গন্ধও হতে লিভার ড্যামেজের কারণ! লিভার ড্যামেজের প্রধান কিছু লক্ষণ জেনে নেওয়া যাক।

১. পেট ফোলা: লিভারে প্রোটিন, অন্যান্য উপাদানসমূহ, এবং তরল পর্দাথের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে পেট ফুলে যায়। বিশেষত নাভির কাছাকাছি স্থান থেকে পেটের চারপাশ ফুলে যায়। মাঝেমাঝে পেটের সাথে হাত, পা এবং হাত-পায়ের গিঁট ফুলে যায়। ২. মুখের দুর্গন্ধ: আপনার লিভার ঠিকমত কাজ না করলে আপনার মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। পচা পেঁয়াজ অথবা মাছের গন্ধ বের হতে পারে মুখ থেকে। এটি শরীরে অতিরিক্ত অ্যামোনিয়া উৎপাদন হওয়ার কারণে হয়ে থাকে।

৩. কালশিটে পড়া: ক্ষতিগ্রস্ত লিভার রক্ত জমাটের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন কম উৎপাদন করে। যার কারণে খুব সহজে ত্বকে কালশিটে পড়ে যায়। হালকা আঘাতে যদি ত্বকে কালশিটে পড়ে যায়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪. ক্লান্তি: কাজ করলে ক্লান্ত হবেন আপনি। কিন্তু অল্পতে ক্লান্ত হওয়া অথবা অতিরিক্ত ক্লান্ত হওয়া বড় কোন রোগের লক্ষণ হয়ে থাকে। লিভার আপনাকে সারাদিনের কাজের শক্তি দিয়ে থাকে। কফি, চা অথবা ক্যাফিন জাতীয় পানীয় ক্ষতিগ্রস্ত লিভারে আরও বেশি ক্ষতি করে থাকে। চা,কফির পরিবর্তে পানি অথবা ফলের রস এই সময় ভাল কাজ দেয়।

৫. বমি বমি ভাব এবং হজমে সমস্যা: লিভার বড় হয়ে গেলে অথবা লিভারে চর্বি জমে গেলে পানি হজম করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অল্প হজমে সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শুরু হয়েছে। হজমের সমস্যার সাথে আরেকটি সমস্যা দেখা দেয়। তা হল বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া। ক্ষতিগ্রস্ত লিভার শরীর থেকে টক্সিন পদার্থ দূর করতে ব্যর্থ হয়। শরীরে টক্সিন পর্দাথ বেড়ে যাওয়ার কারণে বমি হয়।

৬. ত্বকের রং পরিবর্তন: মূলত লিভারের সমস্যা অথবা লিভারে চর্বি জমে গেলে ত্বকের রং পরিবর্তন হয়ে থাকে। ত্বক তার পিগমেনশন হারিয়ে ফেলে যার কারণে ত্বকে সাদা স্পট দেখা দেয়। যা লিভার স্পট নামে পরিচিত। দিনে দিনে এটি হলুদ অথবা কমলা রং ধারণ করে।

৭. পেট ব্যথা: লিভারের সমস্যা শুরু হয় প্রচন্ড পেট ব্যথা দিয়ে। এটি সাধারণত উপরের পেট অথবা ডানদিকের পাঁজরে হয়ে থাকে। এই ব্যথা কেঁপে কেঁপে অথবা আসা যাওয়া করতে পারে। পেটের ব্যথা যদি এত তীব্র হয় যে আপনি বসে থাকতে না পারেন তবে অতি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া খাবারে অরুচি, চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, মুখ তেত হয়ে যাওয়া ইত্যাদিও লিভার ড্যামেজের লক্ষণ হতে পারে। এই লক্ষণগুলো দীর্ঘদিন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লিভার নষ্ট করার জন্য দায়ী এই ৫ টি অভ্যাস: শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হল লিভার। আমরা প্রতিদিন যেসকল খাবার খেয়ে থাকি, তা প্রথমে লিভারে প্রবেশ করে তারপর তা সারা শরীরে বন্টন করা হয়। একটি শরীরকে সুস্থ রাখার পিছনে লিভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই লিভারের কোষগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, যার কারণে এটি ঠিকমত কাজ করতে পারে না। লিভারের কোষ নষ্ট করার পিছনে কিছুটা আমরা নিজেরাই দায়ী। জেনে নিন আমাদের নিজেদের কিছু অভ্যাস যা লিভার নষ্ট করে দিয়ে থাকে।

১. মদ্যপান: লিভার নষ্ট হওয়ার খুব সাধারণ একটি কারণ হল অতিরিক্ত মদ্যপান। অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের বিষাক্ত পদার্থ দূর করার ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়। অ্যালকাহোলের উপদানসমূহ কারণে লিভারে চর্বি জমে যায়। যার কারণে লিভার ড্যামেজ, ফ্যাটি লিভার, এমনকি লিভার ক্যান্সারের মত মারাত্নক রোগ হয়ে থাকে।

২. অতিরিক্ত ঔষধসেবন: অতিরিক্ত ঔষধ খাওয়ার কারণে লিভার তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। শুধুমাত্র শুধু নয় হার্ব, ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট ইত্যাদি লিভারের কাজের ক্ষমতা নষ্ট করে দিয়ে থাকে। লিভারের ক্ষতি করতে পারে এমন একটি ঔষধ এ্যাসিটামিনোফেন যা টাইনল(Tylenol) নামক পরিচিত। এটি ঠান্ডা, জ্বরের জন্য ব্যবহৃত ঔষধে থাকে। এটিকে নিরাপদ ড্রাগ মনে করা হয়। তবে অতিরিক্ত সেবনে এটি লিভারের ক্ষতি সাধন করে থাকে। তাই জ্বর ঠান্ডা হলেই ঔষধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

৩. ধূমপান: কথিত আছে “ধূমপান বিষপান”। এই ধূমপান আপনার লিভারের ক্ষতি করার জন্য দায়ী। সিগারেট সরাসরি লিভারে প্রভাব ফেলে থাকে। সিগারেটের উপাদান সরাসরি লিভারে প্রভাব ফেলে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস উৎপাদন করে থাকে। এই অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ফাইব্রোসিস এর মাধ্যমে লিভারের টিস্যু নষ্ট করে থাকে। শুধু তাই নয় এটি লিভারের দৈনিক কার্যাবলীর মধ্যে বাধা সৃষ্টি করে থাকে।

৪. অপর্যাপ্ত ঘুম: অনেকের অনিদ্রার সমস্যা রয়েছে। এই অনিদ্রার সমস্যা বা অপর্যাপ্ত ঘুম আপনার লিভার ক্ষতিগ্রস্ত করে দিয়ে থাকে। থেকে জানা যায়, অপর্যাপ্ত ঘুম অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে। আরেক গবেষণায় প্রকাশ করে যারা রাতে ঘুমের সমস্যায় ভুগে থাকেন তারা ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এর পাশাপাশি লিভার সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগে থাকেন।

৫. ওবেসিটি এবং পুষ্টিকর খাবারের অভাব: ওবেসিটি অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি লিভারে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে দিয়ে থাকে। লিভার সাধারণত রক্তের চিনি এবং চর্বির পরিমাণ প্রক্রিয়া এবং নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অতিরিক্ত খাবার, চিনি বা চর্বি লিভার প্রক্রিয়া করতে পারে না। যার কারণে লিভারের চারপাশে চর্বি জমে থাকে। পুষ্টিকর খাবার যেমন শাক সবজি, ফল না খাওয়া, অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, জাঙ্ক ফুড খাওয়ার কারণেও লিভারে চর্বি জমে থাকে।

স্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাত্রাই পারে আপনার লিভারকে সুস্থ রাখতে।[১] লিভার ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, জেনে নিন কিভাবে লিভার নিরাপদ রাখবেন! লিভার রোগ মানেই যেন আঁৎকে উঠা। অন্য কোন রোগে যেমন-তেমন, লিভারে অসুখ হয়েছে মনে করলেই মনে নানা অজানা আশঙ্কা উঁকি-ঝুঁকি দেয়। আর চারপাশের সবাই হয়ে উঠেন একেকজন লিভার বিশেষজ্ঞ। এটা করতে হবে, ওটা করোনা জাতীয় পরামর্শ আসতে থাকে ক্রমাগত। লিভার মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। তবে কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ, এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. এ কে এম শামসুল কবীর।

প্রশ্ন : লিভার এত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কেন? উত্তর : আসলে লিভারকে বলা হয় পাওয়ার হাউস অব দ্য হিউম্যান বডি। একটি বাসায় ইলেকট্রিসিটি চলে গেলে যেমন জেনারেটর অন হয়ে যায়, তেমনি শরীরের ক্ষেত্রে লিভার জেনারেটর হিসেবে কাজ করে। শরীরে গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে। প্রয়োজনীয় মুহূর্তে খাবারের ঘাটতি ঘটলে, গ্লুকোজের ঘাটতি ঘটলে লিভার থেকে সরবরাহ দেওয়া হয়। যেকোনো দূষিত পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে লিভার একে ডিটোক্সিফাই করে।

যেকোনো জীবাণু যদি খাবার বা রক্তের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে, লিভার একে দূরীভূত করার চেষ্টা করে। পাশাপাশি অন্য কিছু অঙ্গ কিন্তু লিভারের কার্যক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। সর্বোপরি শরীরে যত এনার্জি, সবকিছুর জায়গা হচ্ছে লিভার। মেটাবলিজম, হজম সেগুলো লিভারেরই কাজ। মজার বিষয় হলো, লিভারকে সৃষ্টিকর্তা এমন শক্তি দিয়ে তৈরি করেছেন যে একটি লিভারকে যদি আমরা ছয় ভাগে ভাগ করি, পাঁচ ভাগ যদি কাজ না করে তাও এক ভাগ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে। অনেক মানুষ জানেনই না, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বসে রয়েছে। তবে তাঁরা কিন্তু বেঁচে আছেন।

প্রশ্ন : লিভারের বেলায় সাধারণত কতটুকু চর্বি থাকতে পারে? উত্তর : এর কোনো সঠিক পরিমাপ নেই। যে বা যিনি ফ্যাটি লিভার নির্ণয় করেন তিনি গ্রেড ওয়ান, গ্রেড টু, গ্রেড ফোর এভাবে ভাগ করেন। লিভারে কিছু চর্বি তো থাকতেই হবে, শক্তি তৈরির জন্য, হরমোন তৈরির জন্য, তবে সেটি যখন একটি নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করে, তখন লিভারকে অমসৃণ দেখায়। সাদা সাদা ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায় সেখানে। তখনই একজন সোনোগ্রাফির চিকিৎসক বলেন, ‘এটি স্বাভাবিক নয়। এটি ফ্যাটি লিভার।’

প্রশ্ন : ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় শুরুতে কি কোনো লক্ষণ ধরা পড়ে? উত্তর : আসলে কখনোই শুরুতে লক্ষণ ধরা পড়ে না। অনেক সময় অগ্রবর্তী পর্যায় গিয়ে ধরা পড়ে। খুবই মজার বিষয় হলো, ফ্যাটি লিভার দৃশ্যমান হয় একজন সোনোগ্রাফারের কাছে। একজন মানুষ হয়তো তার রুটিন চেকআপের জন্য বছরে একবার আলট্রাসনোগ্রাফি করে বা অন্য কোনো কারণে তাকে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে পাঠানো হলো, দেখা গেল তার লিভারে চর্বি জমে বসে আছে। তখনই কিন্তু বের হয় যে তার ফ্যাটি লিভার রয়েছে।

আমরা অন্যান্য অনেক পরীক্ষাই রুটিনমাফিক করি। যেমন কিডনি বা কোলেস্টেরল নির্ণয়। তবে সাধারণ লিভারের পরীক্ষা রুটিনমাফিক করি না। তবে ইদানীং মানুষের মাঝে সচেতনতা বেড়ে যাওয়াতে ফ্যাটি লিভারের রোগটা সামনে আসাতে আমরা সবাই বিষয়টি নিয়ে একটু সচেতন। তবে এর তো আসলে অনেক কারণ রয়েছে।

প্রশ্ন : লিভারে চর্বি জমে গেলে বা ফ্যাটি লিভার হলে ক্ষতি কী। উত্তর : লিভারে চর্বি জমলে আগে অনেক চিকিৎসক বলতেন, ‘এটি কোনো সমস্যা নয়’। তবে এখন দেখা যাচ্ছে যে ফ্যাটি লিভার বেশ খারাপ একটি রোগ। লিভার সিরোসিসের অন্যতম কারণ এটি। আমরা একটি সময় বলতাম যে কিছু কিছু লিভার সিরোসিসের কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

সেটা হলো ক্রিপ্টোজেনিক সিরোসিস বা লুকায়িত লিভারের রোগ, যার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যে লিভারের সিরোসিসগুলোকে আমরা বলতাম লুকায়িত সিরোসিস সেগুলো আসলে ফ্যাটি লিভারের কারণে হতো। এই জন্য ফ্যাটি লিভারের সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। ধরেন, এই ঘরের মধ্যে যদি ১০০ জন ফ্যাটি লিভারের রোগীকে একত্রিত করা হয়, এই ১০০ জনের মধ্যে ২০ জনের ২০ বছরের মধ্যে লিভার সিরোসিস হবে। এই জন্য এটি এত গুরুত্বপূর্ণ। সিরোসিস হলে তো লিভার ট্রান্সপ্ল্যানটেশন বা দীর্ঘদিনের চিকিৎসা করতে হয়।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

প্রশ্ন : একজন লোকের লিভারে চর্বি যদি পরিমাণে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে, সেটি লিভারের কার্যক্ষমতাকে ব্যাহত করে। সেটি কীভাবে।

উত্তর : এটা বলার আগে জানতে হবে ফ্যাটি লিভার কেন হয়? সাধারণত একজন মানুষ স্থূল হলেই কিন্তু ফ্যাটি লিভার হবে না। স্বাভাবিক হওয়ার পরেও কিন্তু ফ্যাটি লিভার হতে পারে। এর এক নম্বর কারণ হলো, অতিরিক্ত মদ্যাপান। দ্বিতীয় হলো, কারো যদি ডায়াবেটিস থাকে বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আরো কোনো মেটাবলিক রোগ থাকে, যেমন : হেপাটাইটিস বি ও সি বলে দুটো জীবাণু রয়েছে এগুলো যখন তাৎক্ষণিকভাবে লিভারে কোনো আঘাত করে তখন হতে পারে। তখন দৃশ্যটা দেখা যায় ফ্যাটি লিভারের মতো।

অনেক সময় নারীরা দীর্ঘদিন জন্মনিয়ন্ত্রক পিল খান। এটিও কিন্তু ফ্যাটি লিভারের কারণ। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। রক্তের মধ্যে ট্রাই গ্লিসারিন হয়ে গেলে ফ্যাটি লিভার হতে পারে। এখন লিভার যেহেতু বিপাকীয় কাজের প্রধান অঙ্গ, তাই ফ্যাটি লিভার হলে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পাবে। একটি হলো ক্লান্তিভাব। হঠাৎ করে সে খেয়াল করবে শরীর খুব দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। যেকোনো কাজ করতে গেলে হাঁপিয়ে যাচ্ছে, দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। একটি পর্যায়ে যদি এটি খারাপের দিকে যায় তাহলে পায়ে পেটে পানি চলে আসে। আবার খুব বেশি খারাপের দিকে গেলে রক্ত বমি হতে পারে, রক্ত পায়খানা হতে পারে।

এই সমস্যাগুলো তৈরি না হওয়ার আগে কিন্তু একজন রোগী কখনো চিকিৎসকের কাছে আসেন না। অসময়ে ঘুম পাওয়া কিন্তু ফ্যাটি লিভারের অন্যতম একটি লক্ষণ। যেসব কারণের কথা বললাম সেগুলো যদি কারো মধ্যে থাকে, আর সে যদি এই লক্ষণগুলো নিজের মধ্যে দেখেন তাহলে তার দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। এই জিনিসগুলো যদি কারো মধ্যে থাকে এবং সে যদি এই লক্ষণগুলো নিজের মধ্যে দেখে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধ: লিভার সিরোসিসে সেরে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। মাত্র ২৫ শতাংশ রোগী পাঁচ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকার আশা করতে পারেন। সিরোসিস থেকে যকৃতের ক্যানসারেও রূপ নিতে পারে। তাই রোগ হওয়ার আগে প্রতিরোধ করাই ভালো। হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, যেমন শিরায় নেশাদ্রব্য ব্যবহার, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ বা ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলুন।

যাঁরা হেপাটাইটিস বি নেগেটিভে আক্রান্ত, তাঁরা সংক্রমণ এড়াতে টিকা দিয়ে নিতে পারেন। অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান এড়িয়ে চলুন। হেপাটাইটিসে সংক্রমণ হলে ঝাড়ফুঁক-জাতীয় চিকিৎসা না করে দ্রুত বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা নিন।[২]

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন: লিভার আমাদের দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন লিভারের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগ, দীর্ঘ সময় ক্লান্তি অনুভব করা, হজমের সমস্যা, এলার্জি ইত্যাদি এই সমস্ত অসুখ দেখা দিতে পারে অসুস্থ লিভারের কারণে। তাই দেহ ও লিভার সুস্থ রাখার জন্য চিনে নিন এমন কিছু খাবার যা সুস্থ রাখবে আপনাকে-

লেবুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান দেহের লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং ডি লিমনেন উপাদান লিভারে এনজাইম সক্রিয় করে। তাছাড়া লেবুর ভিটামিন সি লিভারে বেশি করে এনজাইম তৈরি করে যা হজম শক্তির জন্য উপযোগী। লেবুর মিনারেল লিভারের নানান পুষ্টি উপাদানগুলো শোষণ করার শক্তি বৃদ্ধি করে। বাসায় লেবুপানি পান করুন এবং যেকোন সময় পানের জন্য লেবুপানি বানিয়ে রাখুন। প্রতিদিন লেবুপানি পান করুন, চাইলে মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন।

লিভার পরিষ্কার রাখার জন্য উত্তম খাবার হল রসুন। রসুনের এনজাইম লিভারের ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান পরিষ্কার করে। এতে আছে আছে আরও দুটি উপাদান যার নাম এলিসিন এবং সেলেনিয়াম যা লিভার পরিষ্কার রাখে এবং ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান হতে রক্ষা করে। প্রতিদিন যে কোন সময় ২/৩ টি রসুনের কোয়া খেয়ে নিন। আপনি চাইলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রসুন দিয়ে তৈরি ভিটামিনও খেতে পারেন।

প্রতিদিন ১ টি করে আপেল খেলে তা লিভারকে সুস্থ রাখে। আপেলের পেক্টিন, ফাইবার দেহের পরিপাক নালী হতে টক্সিন ও রক্ত হতে কোলেস্টরোল দূর করে এবং সাথে সাথে লিভারকেও সুস্থ রাখে। আপেলে আছে আরও কিছু উপাদান- ম্যালিক এসিড যা প্রাকৃতিক ভাবেই রক্ত হতে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে। যেকোন ধরণের আপেলই দেহের লিভারের জন্য ভালো। তাই লিভার সুস্থ রাখতে প্রতিদিন ১ টি করে আপেল খান।[৩]

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

Leave a Reply