যে ১০টি সুপার পাওয়ার নিয়ে আপনার দেহ কাজ করে যাচ্ছে - Bd Online News 24
Home » চিকিৎসা » যে ১০টি সুপার পাওয়ার নিয়ে আপনার দেহ কাজ করে যাচ্ছে

যে ১০টি সুপার পাওয়ার নিয়ে আপনার দেহ কাজ করে যাচ্ছে

যদি মনে করেন আমাদের শরীরের ভিতরের অঙ্গগুলোর কাজ কেবল শ্বাস নেওয়া আর খাবার হজম করা তাহলে এই আর্টিকেল পড়ার পর আপনার চিন্তা ধারাই পরিবর্তন হয়ে যাবে। যেমন, আপনি কি জানেন পাকস্থলীর অ্যাসিড ধাতব জিনিসও গলিয়ে ফেলতে পারে? শুধু তাই না, প্রত্যেকটি অঙ্গেরই রয়েছে অসাধারণ নানান শক্তি। আমরা আপনার জন্য নিয়ে এসেছি অসাধারণ কিছু তথ্য যা আপনার শরীর সম্পর্কে আপনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

১. হৃৎপিণ্ড: দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি দিয়েই শুরু করা যাক: হৃৎপিণ্ড যে চাপে রক্ত পাম্প করে তাতে রক্ত ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে উঠতে পারে, যা মোটামুটি ৩ তলা বাড়ির সমান উঁচু। নারীদের হৃৎস্পন্দন পুরুষের চেয়ে বেশি। হৃৎপিণ্ড প্রতিদিন ২,০০০ গ্যালন পরিমাণ রক্ত পাম্প করে। চোখ বুজে কল্পনা করুন, ২,০০০ গ্যালন, প্রতিদিন, আর বছরে তা প্রায় ৭০০,০০০ গ্যালন এবং এর আকার মাত্র এক মুষ্টি হাতের মত। খুব ব্যস্ত ছোট পাম্প, তাই না?

২. লিভার বা যকৃত বা কলিজা: লিভার হচ্ছে সবচেয়ে অলরাউন্ডার অঙ্গ। এক সাথে অঙ্গটি অনেক কাজ করে। বিজ্ঞানীরা লিভারের ১০০’রও বেশি ছোট ছোট কাজের কথা জানতে পেরেছেন। লিভার অনেক বড় ক্ষতিও কাটিয়ে উঠতে পারে। কেটে ফেললেও এটি নিজে নিজে আবার আগের অবস্থায় চলে আসতে পারে, দরকার শুধু ২৫% আগের টিস্যু।

প্রাচীন গ্রিকরা বিশ্বাস করতেন মানুষের সব আবেগ অনুভূতি লিভারে সংরক্ষিত থাকে। বাংলা ভাষায়ও কলিজার সাহস, দুঃখ, আনন্দ বা কষ্ট নিয়ে অনেক প্রবাদ পাওয়া যায়। তোর কলিজা কত বড়- এমন কথা তো প্রায়ই শোনা যায়।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

৩. ফুসফুস: ফুসফুস পানির উপর সে ভাসতে পারে। প্রতিদিন ১০,০০০ লিটার বাতাস ফুসফুস দিয়ে যাওয়া আসা করে। যদি ফুসফুস সম্পূর্ণ মেলে ধরা সম্ভব হয় তাহলে তা একটি টেনিস খেলার কোর্টের সমান হবে। ফুসফুসের স্বাদ বোঝার ক্ষমতা রয়েছে যা তিতা স্বাদ আলাদা করতে পারে। কথা বলা বা শব্দ উচ্চারণেও ফুসফুসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

৪. কিডনি: কিডনির মূল কাজ হলে শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দিয়ে রক্ত বিশুদ্ধ করা। আর এই কাজ করার জন্য কিডনিতে রয়েছে কমপক্ষে ১ মিলিয়ন এবং সর্বোচ্চ ২ মিলিয়ন নেফ্রন নামক অতিক্ষুদ্র ছাকনি। আমাদের মূলত ২টি কিডনির প্রয়োজন নেই। দুই কিডনির কাজ এক কিডনিই খুব ভালো ভাবে সম্পাদন করতে পারে। যদি কোনো শিশু একটি কিডনি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে তাহলে বড় হতে হতে ওই কিডনির ওজন ২টি কিডনির সমানই হবে।

৫. এড্রিনাল গ্লান্ড: এড্রিনাল গ্লান্ড আপনাকে সিদ্ধান্ত দেয় আপনি কি লড়াই করবেন নাকি দৌড়ে পালাবেন এবং এড্রিনালিন নামক হরমোন নিঃসরণ করে যা মানসিক চাপের জন্য দায়ী। কোনো বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলেই এড্রিনালিন মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় এবং মস্তিষ্ক সে অনুযায়ী আমাদের পরামর্শ দেয় কি করতে হবে।

এড্রিনাল গ্ল্যান্ড আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ করে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা পরিমাণের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। গ্ল্যান্ডটি যদি অনেক বেশি অ্যান্ড্রোজেনিক স্টেরয়েড হরমোন নিঃসরণ করে তাহলে নারী পুরুষ যে কারো দেহেই বিভিন্ন পুরুষালী ভাব যেমন টাক পড়া এবং অতিরিক্ত লোম দেখা দিতে পারে।

৬. মূত্রথলি: কিডনি প্রস্রাব তৈরি করে মূত্রথলিতে জমা রাখে। এই অঙ্গটি তার প্রয়োজনে অনেক বড় আকার ধারণ করতে পারে। এটি প্রায় ৬০০ মিলি প্রস্রাব ধারণ করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মূত্রথলি দেখতে নাশপাতির মতো দেখায়।

৭. ক্ষুদ্রান্ত্র: ক্ষুদ্রান্ত্র তার নাম পেয়েছে নলের আকার ছোট বলে, কিন্তু জেনে অবাক হবেন এই ক্ষুদ্রান্ত্রই মানবদেহের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ অঙ্গ। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ ফুটের মত এবং যদি সার্ফেস এরিয়া ফ্লাট করা হয় তাহলে ২টি টেনিস কোর্টের সমান হবে। অঙ্গটি প্রায় ১ কেজির মত ব্যাকটেরিয়া ধারণ করে। আশ্চর্যজনক ভাবে, জাপানীদের ক্ষুদ্রান্ত্রে বাকি পৃথিবীর মানুষের চেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অণুজীব পাওয়া যায়, যা সমুদ্র শৈবাল দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে।

৮. পাকস্থলী: পাকস্থলীর ধারণ ক্ষমতা অবাক করার মত, ভরা না খালি তার উপর ভিত্তি করে ১ থেকে ৪ লিটার খাবার সে ধারণ করতে পারে।
এর অ্যাসিড এতটাই শক্তিশালী যে খাবার তো খাবার, ধাতব জিনিসও হজম করে ফেলতে পারে। নিজেকেই নিজে যেন হজম করে না ফেলে সেজন্য এর কয়েকটি স্তর রয়েছে এবং প্রত্যেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এবং সপ্তাহে ২ বার সবচেয়ে পাতলা স্তরটি নতুন করে তৈরি হয়। খালি পেটে এর অ্যাসিডের তীব্রতা এতই থাকে যে সিনথেটিক প্লাস্টিকের কোন জিনিসও সে গলিয়ে ফেলতে পারে।

৯. মস্তিষ্ক: মস্তিষ্কই একমাত্র অঙ্গ যার কার্যক্রম নিয়ে এখনো মানুষের মধ্যে রহস্য রয়ে গেছে। এটি প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন বহন করে।
এর কোনো পেইন রিসিপটর নেই, অন্য ভাবে বলতে গেলে, মস্তিষ্ক ব্যথা বুঝতে পারলেও ব্যথা অনুভব করতে পারে না। মস্তিষ্কের প্রায় ১০০ ট্যারাবাইট স্মৃতি ধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে যা একটি সুপার কম্পিউটারের সামিল। দুঃখজনক ভাবে একটা ভুল ধারণা আমরা পোষণ করি যে, মস্তিষ্কের খুব কম অংশ মানুষ ব্যবহার করতে পারে। আসলে সে পুরো ক্ষমতাই ব্যবহার করে। এমন কি ঘুমন্ত অবস্থায়ও এর ১০% সক্রিয় থাকে।

১০. অগ্ন্যাশয়: অগ্ল্যাশয়ের একটি লেজ আর একটি মাথা রয়েছে। এই অঙ্গটি ছাড়াও আমরা বাঁচতে পারি, কিন্তু বিষয়টি খুব সুখকর হবে না, যদিও আমাদের খাওয়া কোনো খাবারই এই অঙ্গের ভিতর দিয়ে যেতে পারে না, কিন্তু হজমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম নিঃসরণের মতো জটিল কার্যক্রম একেই করতে হয়। এটি চিনি জাতীয় খাবারে স্বাদ বুঝতে পারে, কিন্তু জিহ্বার মত সে মস্তিষ্কে সেই খবর পাঠায় না।

এর বদলে সে চিনি শনাক্ত করে হরমোন ব্যালেন্স করে। এখন কি মনে হচ্ছে না আপনার দেহের ভিতরে সুপার পাওয়ার বসবাস করছে? আপনারও কি শরীর সম্পর্কে এর বাইরে আর কোনো তথ্য জানা আছে? যদি জানা থাকে তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে আমাদের লিখে জানান।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

Leave a Reply