বিশ্বে মুসলমানদের সংখ্যা আসলে কত? - Bd Online News 24
Home » Uncategorized » বিশ্বে মুসলমানদের সংখ্যা আসলে কত?

বিশ্বে মুসলমানদের সংখ্যা আসলে কত?

ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়তে থাকায় জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি মুসলিম জনসংখ্যা পরিচিতির দিকে আকৃষ্ট হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া-ভিত্তিক জনকল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী গবেষণা-সংস্থা পিউ PEW-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের মোট সংখ্যা ১৫৭ কোটি। ১২০টিরও বেশি দেশে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলমান। বিশ্বের ৩৫টি দেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ২৯টি দেশে মুসলমানরা সংখ্যালঘু হলেও অত্যন্ত প্রভাবশালী। বিশ্বের ২৮টি দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। ইরান, মিশর, কুয়েত, ইরাক, মরক্কো, পাকিস্তান ও সৌদি আরব এসব দেশের মধ্যে অন্যতম।

মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এই দেশটির জনসংখ্যা বিশ কোটিরও বেশি। ১৭ কোটিরও বেশি মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে পাকিস্তান রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে এবং ১৬ কোটি মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে ভারত রয়েছে তৃতীয় স্থানে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মিশর ও নাইজেরিয়া। বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যার দিক থেকে ইরান রয়েছে সপ্তম স্থানে। এর পরে রয়েছে যথাক্রমে তুরস্ক, আলজেরিয়া ও মরক্কো।

১৯৮০ সালে বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ কোটি। ২০০৪ সালে এই সংখ্যা একশ ত্রিশ কোটিতে পৌঁছে। ১৯৯৫ সালের পর থেকে মুসলমানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দেখা গেছে ভারতে। চীন ও ভারতের পর মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিক থেকে শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া ও বাংলাদেশ।যাই হোক, মুসলিম জনসংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকায় পাশ্চাত্যের অনেক দেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ইসলাম সম্পর্কে আতঙ্কের ফলেই তারা মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে ভয় পাচ্ছে।

মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির উচ্চ হারের প্রধান কারণ হল, বেশির ভাগ মুসলিম দেশে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে এবং এর ফলে নবজাতক ও শিশু মৃত্যুর হার ব্যাপক মাত্রায় কমে গেছে। একই কারণে মুসলমানদের গড় আয়ুও ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু পশ্চিমা সরকারগুলো মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির উচ্চ হারের এই কারণের কথা উল্লেখ না করে কেবল বেশি সংখ্যক মুসলিম শিশু জন্ম নিচ্ছে বলে প্রচার করছে।

বিভিন্ন দেশে মুসলিম জনসংখ্যা সম্পর্কে তথ্য ও উপাত্ত প্রচারের ক্ষেত্রে দুই ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। প্রথমটি রাজনৈতিক সংকীর্ণতায় প্রভাবিত দৃষ্টিভঙ্গি। এ দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী মুসলমানদের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল তাদেরকেই গণনার আওতায় আনা হয় যারা নিয়মিত সব ধরণের ফরজ বা অত্যাবশ্যক ধর্মীয় কর্তব্য পালন করেন। যেমন, যারা সব সময় নামাজ পড়েন ও মসজিদে যান কেবল তাদেরকেই মুসলমান হিসেবে ধরা হয়।দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, যারাই নিজেদের মুসলমান বলে দাবি করেন তাদের সবাইকে মুসলমান হিসেবে ধরা হয়। অবশ্য প্রথম দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বেশিরভাগ খৃস্টান, ইহুদি ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী আদম শুমারিতে নিজ ধর্মের লোক হিসেবে স্বীকৃত হন না।

পশ্চিমা সরকারগুলো ইসলাম আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে “বিশ্ব জনসংখ্যা বিপ্লব” বলে অভিহিত করছেন। অথচ গত ত্রিশ বছরে মুসলিম পরিবারগুলোয় শিশুর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। ১৯৭৫ সালে প্রত্যেক মুসলিম পরিবারে শিশুর সংখ্যা ছিল গড়ে ছয় দশমিক পাঁচ। ২০০৪ সালে এ সংখ্যা কমে চারে নেমে এসেছে। এমনকি বহু মুসলিম দেশে এই হার মাত্র দুই দশমিক ছয়। আলজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং রাশিয়ায় মুসলিম পরিবারগুলোর শিশু সংখ্যার হার এর চেয়েও কম। আজারবাইজান ও তুরস্কে মুসলিম পরিবারগুলোর শিশু সংখ্যার হার ইউরোপের মতই অত্যন্ত নিম্ন বা কম।

পাশ্চাত্যের কোনো কোনো দেশে অমুসলিম প্রধান অঞ্চলের কাছে মুসলমানদের জনসংখ্যা লক্ষনীয় মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব দেশে স্থানীয় সংখ্যালঘু মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ব্যাপক সংখ্যায় বহিরাগত মুসলমানদের অভিবাসনকে মারাত্মক সংকট হিসেবে তুলে ধরছে পাশ্চাত্য। অথচ প্রভাবশালী ইহুদী ধর্মাবলম্বী বা মুসলমান ছাড়া অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জনসংখ্যার ব্যাপক বৃদ্ধি বা তাদের অভিবাসনকে পশ্চিমা সরকারগুলো সম্মানের চোখে দেখছে।
মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, দক্ষিণ রাশিয়া ও ভারতসহ বিশ্বের কোনো কোনো অঞ্চল এমনই যে এসব অঞ্চলে জনসংখ্যা সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

কোনো অঞ্চলে বিশেষ কোনো ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও বিশেষ সুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ইহুদিদের তুলনায় আরবদের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে দখলদার ইহুদিবাদীদের বিরুদ্ধে বিজয়ের অন্যতম চালিকাশক্তি বলে মনে করে। এরই আলোকে ইসরাইলের দখলে থাকা ফিলিস্তিনে আরবদের জন্মহার খুব দ্রুত বাড়ছে।

২০০৪ সালে এ অঞ্চলে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ১৭ শতাংশ এবং এদের মধ্যে সাড়ে চার লাখ মুসলমানের বয়স ছিল ১৫ বছর। এ অঞ্চলে মুসলমানদের জন্ম হার শতকরা তিন দশমিক চার ভাগ এবং দখলদার ইহুদিবাদীদের জন্মহার এক দশমিক চার শতাংশের বেশি নয়। এ ছাড়াও ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের জন্য নির্ধারিত অঞ্চলে ফিলিস্তিনি জনসংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনে গাযায় রয়েছে ১২ লাখ ফিলিস্তিনি। গাযায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও শতকরা চারে পৌঁছেছে।

ফিলিস্তিনিদের এইসব জনসংখ্যার সাথে বিভিন্ন দেশে শরণার্থীর জীবন যাপন করতে বাধ্য ফিলিস্তিনির সংখ্যা যোগ করলে তা ইসরাইলের ইহুদিবাদীদের সংখ্যার দ্বিগুণ হবে। ফিলিস্তিনিদের জনসংখ্যার গড় প্রবৃদ্ধি ইসরাইলের ইহুদিবাদীদের জনসংখ্যার গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে তিন গুণ বেশি।

২০০৪ সালের হিসেব অনুযায়ী ইসরাইলের জনসংখ্যা ছিল ৭৫ লাখ। অন্যদিকে আশপাশের মুসলিম দেশ লেবানন, সিরিয়া, জর্দান ও মিশরের সম্মিলিত জনসংখ্যা দশ কোটি। এ অবস্থায় দখলদার ইসরাইলকে মুসলিম ও আরব জনসংখ্যার সাগরে ভাসমান একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ বলা যায়। অন্যদিকে ইসরাইলে কথিত ব্যাপক সুযোগ-সুবিধার অভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিন বা ইসরাইলে ইহুদিদের অভিবাসনও কমে গেছে ব্যাপক হারে।

মিশর, ইরাক, লেবানন, ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার মত দেশগুলোতে খৃস্টান জনসংখ্যা হ্রাসও লক্ষনীয়। ১৯১৪ সালে মিশরের জনসংখ্যার শতকরা ২৬ ভাগই ছিল খৃস্টান। ১৯৯৫ সালে দেশটিতে খৃস্টানদের জনসংখ্যার হার কমতে কমতে শতকরা নয় দশমিক দুই ভাগে দাঁড়িয়েছে।

রাশিয়ার মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধিও লক্ষনীয়। ১৯৮৯ সালে এই দেশটিতে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল এক কোটি বিশ লাখ। অর্থাৎ দেশটির মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮ ভাগই ছিল মুসলমান। ২০০২ সালে রাশিয়ার মুসলমানদের সংখ্যা এক কোটি ৪০ লাখ বলে ধরা হয়। অবশ্য অনেকে মনে করেন রাশিয়ার মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় বিশ মিলিয়ন বা দুই কোটি।

২০০৫ সালের আগস্ট মাসে রাশিয়ার মুফতি কাউন্সিলের প্রধান রাউইল আইন উদ্দিন সেদেশে ২৩ মিলিয়ন বা দুই কোটি ত্রিশ লাখ মুসলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীন হয়ে যাওয়া প্রজাতন্ত্রগুলোর অনেক মুসলমান রাশিয়ায় অভিবাসন করায় এ বিষয়টিও দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে লক্ষনীয় ভূমিকা রেখেছে। ইসলাম ধর্মই রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম।

Leave a Reply