মাত্র একটি কারণে মক্কা-মদিনায় হিন্দু-খ্রিস্টানরা প্রবেশ করতে পারে না ।। - Bd Online News 24
Home » ধর্ম » মাত্র একটি কারণে মক্কা-মদিনায় হিন্দু-খ্রিস্টানরা প্রবেশ করতে পারে না ।।

মাত্র একটি কারণে মক্কা-মদিনায় হিন্দু-খ্রিস্টানরা প্রবেশ করতে পারে না ।।

মাত্র একটি কারণে মক্কা-মদিনায় হিন্দু-খ্রিস্টানরা প্রবেশ করতে পারে না ।। পিসটিভি বাংলার নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রশ্নত্তোর পর্বে ডা. জাকির নায়েকের কাছে এবার এক হিন্দু মেয়ে জিজ্ঞেস করেন, আচ্ছা ডা. জাকির নায়েক! আপনি বলে থাকেন, হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান সবাই ভাই ভাই। আমরা সবাই যদি ভাই ভাই হয়ে থাকি তাহলে মক্কা-মদিনায় প্রবেশ করতে পারি না কেন?

মেয়েটির প্রশ্নের প্রশংসা করে ডা. জাকির নায়েক বলেন, আপনার বাসা কোথায়? মেয়েটির উত্তর : ইন্ডিয়ায়। জাকির নায়েক : জন্মস্থান কোথায়? মেয়েটির উত্তর : ইন্ডিয়ায়।বোন আপনি কি জানেন, ইন্ডিয়ায় বসবাস বা ইন্ডিয়ায় জন্ম নিয়েও আপনি ইন্ডিয়ার এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে প্রবেশ করতে পারবেন না? মেয়েটির উত্তর, না, এমন কোনো জায়গা থাকতে পারে না। আমি ইন্ডিয়ার সব জায়গায় প্রবেশ করতে পারি।ডা. জাকির নায়েক ফের বলেন, আপনি সব জায়গায় প্রবেশ করতে পারলেও একটা জায়গায় প্রবেশ করতে পারবেন না। আর সেটা হলো ক্যান্টনমেন্ট।

এখানে তাদেরই প্রবেশ করতে দেয়া হয়, যারা দেশের যেকোনো কল্যাণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। বোন ইসলামের একটা ক্যান্টনমেন্ট আছে, সেটা হলো মক্কা ও মদিনা শরিফ।এখানে তারাই প্রবেশ করতে পারে, যারা আল্লাহর জন্য জানমাল দিতে পারে। আপনি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’- এই ক্লাবের পাসপোর্টধারী হলেই আপনি মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবেন।

ডা. জাকির নায়েকের এমন চমৎকার উত্তর শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। আর তাঁর উত্তর অনুসারে মাত্র এই একটি কারণে মক্কা-মদিনায় হিন্দু-খ্রিস্টানরা প্রবেশ করতে পারে না।হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করা আমেনার করুণ এই গল্পে কাঁদবেন আপনিও পড়েই দেখুন।মৃত দাদীকে চিতায় তুলে দিয়ে আগুনে পোড়ানো হচ্ছিল। আর এই দৃশ্য দেখছিল ১১ বছর বয়সী নাবালিকা কৃষ্ণা ব্যানর্জি।

এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে ঘর ছাড়েন এই বালিকাটি।কৃষ্ণা সেদিন ঘর ছেড়ে তার এক মুসলিম বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তার নাম রাখেন আমেনা বেগম।ঘটনাটি ১৯৮৯ সালের মানিকগঞ্জের এক পাড়াগাঁয়ের।বর্তমান সেই আমেনা বেগমের বয়স ৩৫ বছর। সেদিন তিনি

অনেকটা না বুঝেই শুধুমাত্র নিজ ধর্মের সৎকার রীতির ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতেই ইসলামের দিকে ধাবিত হয়েছিলেন।এর ফলে পৈত্রিক সম্পত্তি, আত্মীয়-স্বজন সবকিছুর মায়া ত্যাগ করতে হয়েছিল তার।এরপর ওই বান্ধবীর পরিবারের সহায়তায় ভর্তি হন ঢাকার কামরাঙ্গীরচর মহিলা মাদ্রাসায়। সেখানে স্বল্প সময়েই নওমুসলিম আমেনা বেগম হয়ে উঠেন একজন কুরআনের হাফেজ।মাদ্রাসায় পড়াকলিন সময় সেখানকার

হুজুরদের মধ্যস্থতায়ই আমেনার বিয়ে হয় নোয়াখালি সন্দ্বীপের হাফেজ বদিউল আলমের সঙ্গে।ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে সুখের সংসার ছিল তাদের।কিন্তু ২০০৮ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তার স্বামী বদিউল আলমের।স্বামীহারা বিধবা নওমুসলিম আমেনা বেগম ফের একা হয়ে পড়েন। কোথায় থাকবেন, কার কাছে যাবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।এ অবস্থায় ঢাকা বায়তুল মোকাররম এলাকায় তার সঙ্গে পরিচয় হয়

গুলশানের অভিজাত এলাকার এক ধনাঢ্য বৃদ্ধার সঙ্গে।তার বাসার পরিচারিকা হিসেবে নিযুক্ত হন আমেনা বেগম। প্রায় সাড়ে তিন বছর ওই বৃদ্ধাকে আপন মায়ের মতই সেবা করেন তিনি। এক পর্যায়ে ওই বৃদ্ধাও ইন্তেকাল করেন।বৃদ্ধার ইন্তেকালের পর তার সন্তানেরা এই স্বজনহারা হাফেজা নওমুসলিমের আর খোঁজ নেননি।অবলম্বনহীন এই পর্দানশীন হাফেজা নারী পরবর্তীতে জনৈক ব্যক্তির সহায়তায় চলে যান সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায়।

সেখানে এক বাড়ির শিশুদের কুরআন শেখানো ও গৃহস্থলির কাজের বিনিময়ে আশ্রয় মেলে তার। বর্তমান সেখানেই আছেনতিনি।দুই যুগ আগে স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত মুসলিম আমেনা বেগম বলেন, কোনো লোভে মুসলমান হইনি। আল্লাহই আমাকে মুসলমান বানিয়েছেন।আমার মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে ছেড়ে এসেছি আমি। ২৪ বছর ধরে মুসলমান সমাজেই কেটেছে আমার জীবন। এখন এটাই আমরা সব।

তিনি আরো জানান, ২০১১ সালে নওমুসলিমদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রকল্প থেকে সোয়া দুই কাঠা জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার নামে।সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়ার পানপাড়া এলাকায় ওই জমিটুকু অনাবাদিভাবে পড়ে আছে। অর্থাভাবে সেখানে একখানা ঘর বানিয়ে বসবাসের ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি।আমেনা বলেন, বাসায় বাসায় প্রাইভেট পড়িয়ে আমি জীবিকা নির্বাহ করছি।

অন্যের বাসায় থাকি। অনাত্মীয় কারও বাসায় থেকে পর্দা পালন করা কষ্টকর হচ্ছেঅথচ মুসলমান হওয়ার পর থেকে আমি কখনও পর্দা লঙ্ঘন করিনি। তার একটি ছবি তুলতে চাইলে তিনি বললেন আপনার সামনে মুখ খুলতে পারবো না।ছবি তোলাকে গোনাহের কাজ বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।

অপরের অধীনে মানবেতর জীবন থেকে মুক্ত হয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে চান তিনি।হাফেজা বলেন, মহান আল্লাহই আমার ভরসা।তবে কারো পক্ষ থেকে একটু সহযোগিতা পেলে আমি ওই জমিতে ছোট একটি ঘর তুলতে চাই।সেখানেই গড়ে তুলতে চাই আপন ভুবন। থাকতে চাই নিরাপদে, নিজ আবাসে।

Leave a Reply