যে গোনাহ মানুষের ঈমানকে নষ্ট করে দেয়! - Bd Online News 24
Home » ধর্ম » যে গোনাহ মানুষের ঈমানকে নষ্ট করে দেয়!

যে গোনাহ মানুষের ঈমানকে নষ্ট করে দেয়!

কারও বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়া এমন একটি বড় গোনাহ যা মানুষের ঈমানকে ধ্বংস করে দেয় এবং দ্বীন ইসলামে এই গোনাহকে কবিরা গুনাহ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। শাবিস্তান বার্তা সংস্থার রিপোর্ট: সূরা আহযাবের ৫৮ নং আয়াতে এই কাজের নিন্দায় বর্ণিত হয়েছে: «وَ الَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَ الْمُؤْمِناتِ بِغَيْرِ ما اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتانا وَ إِثْما مُبِينا» এবং যারা বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারীদের থেকে (কষ্টদায়ক) কোন কিছু না পাওয়া সত্ত্বেও নিগ্রহ করে নিঃসন্দেহে তারা এক মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।

পবিত্র কোরআনের আয়াত ছাড়াও অসংখ্য হাদিসে মিথ্যা অপবাদ দেয়ার নিন্দা করা হয়েছে। আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী(আ.) বলেছেন, মিথ্যা অপবাদ দেয়ার মত বড় গোনাহ আর নেই। ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন: যারা বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারীদের উপর মিথ্যা অপবাদ দেয় তার ঈমান নষ্ট হয়ে যায় যেভাবে লবন পানিতে গলে শেষ হয়ে যায়। ধ্বংসাত্মক কয়েকটি কবিরা গোনাহ!

গোনাহকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। কবিরা ও সগিরা। আল্লাহ তায়ালা এবং রাসূল (সা.) যেসব গোনাহের ব্যাপারে কোনো শাস্তি আরোপ করেছেন এবং স্পষ্টভাবে তা থেকে বারণ করেছেন সেই গোনাহগুলো হলো কবিরা গোনাহ। তবে কবিরার মধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন স্তর। কোনো কোনো কবিরা গোনাহ আল্লাহ তায়ালার সত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত, আবার কোনোটা বান্দার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ক. শিরক করা: কবিরা গোনাহের স্তরে এটি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং স্পর্শকাতর। মহান আল্লাহ তায়ালার সত্তা, গুণাবলি ও কার্যাবলিতে অন্য কাউকে শরিক করা বা সমকক্ষ জ্ঞান করাই শিরক। যেমন- আল্লাহর কাছে মোনাজাত করার মতো জীবিত বা মৃত কারও নিকট প্রার্থনা করা। কবর বা মাজারে সেজদা করা, কোনো ব্যক্তিসমষ্টি বা সংগঠককে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে বিশ্বাস করা, পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তায়ালাকে ছেড়ে এমন কাউকে ডাকবে না যে তোমার কোনো উপকারও করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না।

তারপরও যদি তুমি এরূপ কর তাহলে তুমি জালেমদের মধ্যে গণ্য হবে। (সূরা ইউনুস : ১০৬)। অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে, যে আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন। (সূরা মায়িদা : ৩১২)। শিরক ঈমানকে ধ্বংস করে দেয় এবং শিরককারী ব্যক্তি কাফের বলে গণ্য হয়। এমনকি শিরকই একমাত্র গোনাহ, যা ছাড়া আল্লাহ সব গোনাহকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ কখনও তার সঙ্গে শরিক করার গোনাহ ক্ষমা করবেন না। এছাড়া আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেবেন।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

খ. প্রাণনাশ করা: শিরকের পর মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে গর্হিত ও মন্দ কাজ হলো অন্যায়বিহীন মানুষের প্রাণনাশ করা। মানবহত্যা মানবতা বিধ্বংসী ও সুস্থ বিবেকবর্জিত অপরাধ। রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, কোনো মোমিনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার চেয়ে দুনিয়াটা ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে অধিকতর সহজ। (তিরমিজি)। এমনকি একজন মানুষের প্রাণনাশ করা সব মানবজাতির প্রাণনাশের নামান্তর। আল্লাহ তায়ালা বলেন!

কেউ যদি কাউকে হত্যা করে এবং তা অন্য কাউকে হত্যা করার কারণে কিংবা পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তারের কারণে না হয়, তবে সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল। (সূরা মায়িদা : ৩২)। অন্যায়ভাবে হত্যাকারীর জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির হুশিয়ারি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে জেনেশুনে হত্যা করবে তার শাস্তি হলো জাহান্নাম। যাতে সে সর্বদা থাকবে এবং আল্লাহ তার প্রতি গজব নাজিল করবেন ও তাকে লানত করবেন। আর আল্লাহ তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। (সূরা নিসা : ৯৩)।

গ. সুদ খাওয়া: সুদ বলা হয় বিনিময়বিহীন অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করাকে। ইসলাম এবং ইসলামী শরীয়ত শোষণ, জুলুম, নির্যাতন ও মনষ্যত্বহীনতার পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত। সম্পদের ব্যবহার ও ভোগের ক্ষেত্রে ইসলাম দিয়েছে ব্যাপক অধিকার। কিন্তু যে ভোগের কারণে সমাজের অন্যজন নির্যাতিত হয় এবং শিকার হয় দুঃখ-কষ্টের সেই ভোগকে ইসলাম হারাম করে দিয়েছে। পবিত্র কোরআনুল কারিমের বর্ণনা, আল্লাহ বিক্রিকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। (সূরা বাকারা : ২৭৫)।

ব্যবসা-বাণিজ্য যেহেতু মানবিক সাম্য ও অর্থনৈতিক ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম, তাই ইসলামী শরীয়ত সেটাকে গ্রহণ করেছে। আর সুদ যেহেতু মানবতা বিরোধী শোষণমূলক লেনদেন, তাই ইসলাম তাকে হারাম ঘোষণা করেছে।ইসলাম সুদকে শুধু হারামের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং সুদের ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসে যে ধমকি এসেছে অন্য কোনো পাপের বেলায় এমনটা করা হয়নি। এরশাদ করা হয়েছে, হে মোমিনরা! আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমরা যদি প্রকৃত মোমিন হয়ে থাক তবে সুদের যে অংশই অবশিষ্ট রয়ে গেছে তা ছেড়ে দাও!

আর যদি তোমরা সুদকে পরিত্যাগ না কর তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। (সূরা বাকারা : ২৭৮-২৭৯)।
সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এমন কঠিন হুশিয়ারি বাণী আসার পরেও যে এর থেকে নিবৃত হবে না তার মতো হতভাগা কে হতে পারে। এমন কেউ কী আছে যে তার মোকাবেলায় রণাঙ্গনে অবতীর্ণ হবে। ঘ. আহলে এলমকে অবজ্ঞা করা:

আহলে এলম বলা হয় যারা কোরআন ও হাদিসের বুৎপত্তি অর্জন করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে। কোরআন-হাদিস যেমন সম্মানিত এর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিটি ব্যক্তি এবং বস্তুও তেমন সম্মানিত। এক প্রস্থ কাপড় দিয়ে যখন কোনো জামা তৈরি করা হয় এর সম্মান এবং মূল্য যতটুকু হয়, পবিত্র কোরআনুল কারিমের সামান্য গিলাফটির মূল্য তার চেয়ে শতগুণ বেশি হয়। আর এটাই ঈমানের দাবি।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

আল্লাহ তায়ালা আহলে এলম সম্পর্কে কোরআন পাকে বর্ণনা করেন, হে নবী আপনি বলুন! যারা প্রাজ্ঞ আর যারা অপ্রাজ্ঞ তারা কী সমান হতে পারে? (জুমার : ৯)। হজরত মোয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের বিজ্ঞ আলেম বানিয়ে দেন। (বোখারি ও মুসলিম, মেশকাত : ১৮৯)। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়, একজন এবাদত গুজার ব্যক্তির ওপর একজন আহলে এলমের মর্যাদা তেমন পূর্ণিমা রাতে সব নক্ষত্রের ওপর চাঁদের মর্যাদা যেমন, আর আহলে এলমরাই হলো আম্বিয়া কেরামদের উত্তরসূরি। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মেশকাত : ২০০)।

১৪০০ বছর আগে মহানবী (সা.) ইন্তেকাল করেন। কিন্তু তার অবর্তমানে কেয়ামত পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর প্রতিনিধি হিসেবে আহলে এলমদের নির্বাচিত করা হয়। কেয়ামত পর্যন্ত তারা রাসূল (সা.) এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবেই নির্বাচিত থাকবে। কেউ যদি অন্তর থেকে আহলে এলমকে অবজ্ঞা এবং ঘৃণা করে তার ঈমান থাকবে না। কারণ আহলে এলমকে অবজ্ঞা করা প্রকারান্তরে রাসূল (সা.) কেই অবজ্ঞা করা হলো। আর রাসূল (সা.) কে অবজ্ঞা এবং কটাক্ষকারী কখনও মুসলিম থাকতে পারে না।

Leave a Reply