কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে কঠোর নজরদারি – দৈনিক সমকাল

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার পর্যটকদের নিরাপত্তা সুরক্ষা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে,

পাশাপাশি সম্প্রতি সিলেটের আতিয়া মহলে জঙ্গি অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে এখানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জঙ্গিবাদীরা যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকদের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার চালিয়ে কক্সবাজারের পাশাপাশি ইনানী, কলাতলীসহ অন্যান্য বিচে নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে তীক্ষষ্ট নজর রাখছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার দৈনিক সমকাল পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রতিবেদনে পর্যটকদের সুরক্ষার লক্ষ্যে কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো_ ফেসবুকে বিদেশি পর্যটকদের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া এতে কক্সবাজারের পাড়া-মহল্লায় ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গি প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা ফেসবুকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার চালাচ্ছে। ফেসবুকে সামির খান, অচিন কাব্য ও আবু খাদিজা নামের তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রচারকারীরা নিজেদের আল কায়দা ইন দি ইনডিয়ান সাব-কন্টিনেন্টের (একিউআইএস) মতবাদে বিশ্বাসী একটি জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য বলে দাবি করছে। ফেসবুকে ইউআরএল উল্লেখ করে একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানাও প্রচার করছে তারা। সমুদ্রসৈকতে আসা পর্যটকদের আচার-আচরণ ও পোশাক-পরিচ্ছদকে ‘অশালীন ও অনৈসলামিক’ আখ্যা দিয়ে তারা সহিংসতার উস্কানি দিচ্ছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা সুরক্ষায় সরকার সংশ্লিষ্টদের যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথিত উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সমুদ্রসৈকত সম্পর্কে নেতিবাচক অপপ্রচার কিংবা নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে গোয়েন্দারা সজাগ আছে। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা নিরাপত্তা মনিটরিং করছে। বিদেশি পর্যটক অবস্থান করেন, এমন আবাসিক হোটেলে কঠোর নিরাপত্তা রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা সুপারিশ: প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে অতীতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, এমন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সমুদ্রসৈকতের যেসব এলাকায় বিদেশি পর্যটকরা অবস্থান করছেন, সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি ছদ্মবেশে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার অব্যাহত রাখতে হবে। এ ছাড়া কক্সবাজার জেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সাধারণ ব্যক্তিদের নিয়ে ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করতে হবে। এ কমিটি জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতা, অর্থদাতা, পরিকল্পনাকারী ও অস্ত্র সরবরাহকারীসহ জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্থানীয়ভাবে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here